Thursday, February 29, 2024

হ্যাপি বার্থডে মি. বিন

তারিখ:

তার নাম শোনেনি এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে হয়তো হাতেগোনা। তিনি এমন একজন অভিনেতা, যার নামটাই একটা ব্র্যান্ড। তবে এই ব্র্যান্ডের আড়ালে তার আসল নামই ঢাকা পড়ে গেছে। তিনি রোয়ান অ্যাটকিনসন। পর্দায় আমরা যাকে চিনি মি. বিন নামে। নির্বাক সিনেমার জাদুকরী এ অভিনেতার ৬৮তম জন্মদিন আজ।

১৯৫৫ সালের ৬ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের কনসেটে জন্ম তার। রোয়ান সেবাস্টিয়ান অ্যাটকিনসনের ডাক নাম ছিল রো। এলা মে এবং এরিক অ্যাটকিনসনের আট সন্তানের মধ্যে রোয়ান ছিলেন চতুর্থ। স্কুলে পড়ার সময় হঠাৎই অভিনয়ের প্রেমে পড়ে নাট্যদলে নাম লেখান রোয়ান। মঞ্চে তার অভিনয় দেখে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিনয়কে সিরিয়াসলি নেয়ার পরামর্শ দেন রোয়ানকে। কিন্তু, সে সময় পড়াশোনাতেই বেশি সিরিয়াস ছিলেন তিনি।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ই রোয়ানের পরিচয় হয় রিচার্ড কার্টিসের সঙ্গে। রিচার্ড ছিলেন একজন নাট্যকার ও গীতিনাট্য অভিনেতা। তারা দুজন মিলে গড়ে তোলেন ‘অক্সফোর্ড নাট্যশালা’। এ সময় রিচার্ড কার্টিসের সঙ্গে নাটক লেখাও শুরু করেন রোয়ান। সেইসঙ্গে চলতে থাকে বিভিন্ন কমেডি নাটকে অভিনয়। বিবিসি রেডিও থ্রিতে ‘দ্য অ্যাটকিনসন পিপল’ অনুষ্ঠানে একসঙ্গে পারফর্ম করতেন তারা।

মুভি ও টিভি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচিত হলেও শুরুর দিকে কমেডি বই লিখেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন রোয়ান। ১৯৭৯ সালে তার লেখা স্কেচ কমেডি শো ‘নট দ্য নাইট ও ‘ক্লোক নিউজ’ এতোটাই জনপ্রিয়তা লাভ করে যে, বেস্ট সেলিং, ব্রিটিশ একাডেমি অ্যাওয়ার্ড এবং আন্তর্জাতিক অ্যামি অ্যাওয়ার্ডও জয় করে নেন তিনি। পরবর্তীতে এই বই থেকেই টিভি কমিক অনুষ্ঠান তৈরি হয় এবং তাতে অভিনয় করেন রোয়ান অ্যাটকিনসন নিজেই।

১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো মিস্টার বিনকে দেখা যায় টেলিভিশনের পর্দায়। সিরিজটির কারণে সবার কাছে মি. বিন নামেই পরিচিত হয়ে উঠেন তিনি। টানা বিশ বছর এ চরিত্রে অভিনয় করেন রোয়ান। পাশাপাশি সে সময় দ্য ব্ল্যাক অ্যাডার এবং ফানি বিজনেসসহ বেশ কয়েকটি তুমুল জনপ্রিয় টিভি সিরিজেও নিয়মিত দেখা যায় তাকে।

১৯৮৩ সালে জেমস বন্ড সিরিজের ‘নেভার সে নেভার অ্যাগেইনের একটি সাপোর্টিং চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। এরপর একে একে অভিনয় করেন ‘দ্য টল গাই, দ্য উইচেস, লাভ অ্যাকচুলি, মি. বিনস হলিডে, জনি ইংলিশ, জনি ইংলিশ স্ট্রাইক্স অ্যাগেইন এর মতো বিখ্যাত সব সিনেমায়।

রোয়ান অ্যাটকিনসন তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন অনেক। ২০০৫ সালের ব্রিটিশ কমেডি ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ৫০ কমেডিয়ানের তালিকায় নাম ওঠে তার। ২০১২ সালে মি. বিন চরিত্রে আর হাজির না হওয়ার ঘোষণা দেন এ অভিনেতা। মি. বিন চরিত্রে তাকে আর অভিনয় করতে না দেখা গেলেও তার অভিনীত এ চরিত্রটি সারা জীবন বিনোদন দিয়ে যাবে দর্শকদের। হ্যাপি বার্থডে মি. বিন।

জনপ্রিয় সংবাদ