Friday, March 1, 2024

নির্বাচনের আগে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে মেট্রোরেল; ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন

তারিখ:

বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর ঢাকা প্রবেশ করেছে মেট্রোরেল যুগে। জাপানের সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি জনসংখ্যার এই শহরের মানুষ যাতায়াতের ক্ষেত্রে যে আগের চেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করতে পারবে, তা বলাই বাহুল্য। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ তাদের একটি প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে, বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মেট্রোরেল উদ্বোধন আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তি অনেকটাই উজ্জ্বল করবে।

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে মেট্রোরেলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেট্রোরেলকে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার আরেকটি সংযোজন হিসেবে সূচিত করে তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর পরে মেট্রোরেলের মাধ্যমে জনগণের মাথার মুকুটে আরেকটি পালক যুক্ত করা হলো। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার উত্তর অংশের সাথে শহরের কেন্দ্র মতিঝিলের সরকারি দফতর এবং হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকাবাসীর যাতায়াতে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসতে যাচ্ছে মেট্রোরেল। আর মেট্রোরেলের উদ্বোধন রাজনৈতিকভাবেও শেখ হাসিনার সরকারের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে পরিগণিত হতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। এই প্রেক্ষিতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি যখন বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিদ্যুৎ ঘাটতির মতো ইস্যুগুলোর সঙ্গে লড়ছে; তখন মেট্রোরেল স্বাভাবিকভাবেই সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সহায়তা করবে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১০ দশমিক ৩ মিলিয়ন মানুষের আবাসভূমি ঢাকা শহরের আয়তন প্রায় ৩০৫ বর্গকিলোমিটার। এই শহরে ১০ বছর আগেও প্রতি ঘণ্টায় অতিক্রম করা যেত ২১ কিলোমিটার। কিন্তু বর্তমানে শহরটিতে প্রতি ঘণ্টায় অতিক্রান্ত দূরত্ব নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ কিলোমিটারে। বর্তমান অবস্থা বজায় থাকলে এই দূরত্ব আরও নেমে ৪ কিলোমিটারে ঠেকতে পারে বলে একটি রিপোর্টে জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

আর এমন পরিস্থিতিতে ঢাকাবাসীর যাতায়াতের জন্য মেট্রোরেল দারুণ ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। এমনটিই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্সির পরামর্শক এবং দক্ষিণ এশিয়ার সাবেক আঞ্চলিক প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ঢাকার মতো একটি শহরের জন্য এটি দারুণ এক উন্নয়ন। ভারতের বেশ কিছু শহরের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন, সেখানে কর্মক্ষেত্রে যাওয়া মানুষদের বাস্তবতা অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে। মহিলাদের জন্য পরিবহনের একটি নিরাপদ মাধ্যম এটি। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রেক্ষিতে যার গুরুত্ব কোনোভাবেই তুচ্ছ নয়।

একই সময়ে, রামা আরও বলেন, অবিলম্বে যানজট সমস্যা দূর হয়ে যাবে, তা ভাবা বোকামি। কারণ, যতবার একটি দেশ গণপরিবহনের অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ততবারই রাস্তার ৯০-৯৫ শতাংশ খালি জায়গা দখল করে নেয় বাড়তি পরিবহন। আপনার শহর যত বড়, আপনি সাধারণত যাতায়াতের জন্য তত বেশি সময় ব্যয় করেন। যানজটের কারণে সৃষ্ট খরচ অনেকাংশেই শহরের সুবিধাগুলো উপভোগের পথে বাধা সৃষ্টি করে।

ব্লুমবার্গ বলছে, ঢাকায় যানজটের কারণে প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। পাশাপাশি এতে প্রতি বছরে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কয়েক বিলিয়ন ডলার। দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ২০২২’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের বসবাসযোগ্য ১৮২টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান তলানিতে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমআরটি-ছয় প্রকল্পের জন্য ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার তহবিল অনুমোদন করে বাংলাদেশ সরকার। জাপান তখন ১৯ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে খরচ বেড়ে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। কারণ, মেট্রো কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পকে কমলাপুর রেলস্টেশনের সাথে যুক্ত করেছে; যা ঢাকার সাথে সারাদেশের সংযোগবিন্দু।

জনপ্রিয় সংবাদ