Friday, March 1, 2024

৭০ ‘যৌনকর্মীকে’ হত্যা করেছিলেন প্রয়াত বাবা, অভিযোগ মেয়ের

তারিখ:

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের প্রয়াত ডোনাল্ড ডিন স্টাডি তার জীবদ্দশায় ৩০ বছরে ৭০ নারীকে হত্যা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তার মেয়ে লুসি স্টাডি। শুধু তাই নয়, মৃতদেহগুলো মাটির নিচে পুঁতে ফেলতেও অভিযোগকারী নারী ও তার ভাইবোনেরা সাহায্য করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। যদি এই নারীর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি খুন করার রেকর্ড হবে ডোনাল্ড স্টাডির।

নিউজউইককে লুসি স্টাডি বলেন, ‘আমি জানি কোথায় লাশগুলোকে কবর দেওয়া হয়েছে। বাবা ডোনাল্ড ডিন স্টাডি প্রায় ৩০ বছর ধরে অন্তত ৭০ জন নারীকে খুন করেছিলেন। শুধুমাত্র খুনই নয়, আমাদের দিয়ে সেই মৃতদেহ কবরও দেওয়াতেন।’

অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, মূলত যৌনকর্মীদের খুন করা হতো। নানাভাবে লোভ দেখিয়ে ওই নারীদের নিজের বাড়িতে ডেকে আনতেন ডোনাল্ড। তারপরেই খুন করতেন তাদের।

লুসি জানান, তার বাবা ডোনাল্ড ডিন স্টাডি ২০১৩ সালে ৭৫ বছর বয়সে মারা যান। লুসি বলেন, ভারী জিনিস দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করা হত ওই নারীদের। তারপরেই ছেলেমেয়েদের ডেকে নিতেন ডোনাল্ড। ঠেলাগাড়িতে সেই মৃতদেহ তুলে নিয়ে কুয়ার মধ্যে বা পাহাড়ে ফেলে দেওয়া হত।

ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে লুসি জানান, বাবা শুধু বলতেন, কুয়ার কাছে চলে যাও। এরপরেই আমরা বুঝে যেতাম কী করতে হবে। কোন জায়গায় মৃতদেহগুলো পোঁতা হয়েছিল, সেই জায়গাটিও দেখিয়ে দিয়েছেন লুসি। শুধুমাত্র প্রাণের ভয়ে বাবার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেননি বলে জানান।

এ ছাড়া লুসি বলেন, অনেক লাশ ১০০ ফুট কুয়োর মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। তবে তার বাবা মৃতদেহগুলোর দাঁত ট্রফি হিসেবে রেখে দিতেন বলে জানান তিনি। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে দেশটির পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। স্থানীয় পুলিশের প্রধান কেভিন এইস্ট্রোপ বলেছেন, আপাতত ওই জায়গায় কুকুরদের নিয়ে গিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, জায়গাটিতে সত্যিই প্রচুর মৃতদেহ রয়েছে। কিন্তু এখনই কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদি এই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে আমেরিকার ইতিহাসে সর্বাধিক খুনের অভিযোগ থাকবে ডোনাল্ডের নামে।

জনপ্রিয় সংবাদ