Friday, March 1, 2024

পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে স্ত্রীকে খুন করে পালিয়ে ছিলেন স্বামী

তারিখ:

পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে স্ত্রীকে খুন করে পালিয়ে ছিলেন স্বামী। আড়াই বছর পর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন অবশেষে।

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার সীচা দর্জি পাড়া গ্রামের তারা মিয়ার মেয়ে তানজিলা আক্তারের (২৯) ১০ বছর পূর্বে বিয়ে হয় গাইবন্ধা জেলার সদর থানার মঠবাজার গ্রামের জাহের উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিনের (৩৫) সাথে। বিবাহিত জীবনে জন্ম নেয় জোনাকী (৮) নামের এক কন্যা সন্তান। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত তানজিলা আক্তার এবং স্বামী জামাল চাকুরির খোঁজে ঢাকার আশুলিয়ায় চলে আসেন।

আশুলিয়া থানার টেংগুরী কোনাপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্থানীয় একটি গার্মেন্টস এ চাকুরি শুরু করেন তানজিলা। স্বামী জামাল রিক্সা চালিয়ে জীবিকা করতেন। টানাপোড়ানের সংসারে প্রায়ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দেখা দেয় মতবিরোধ। রিক্সা চালক স্বামী জামাল যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময় মারধর করতেন স্ত্রী তানজিলাকে।

এর মধ্যে স্ত্রী তানজিলা আক্তারের মোবাইলে কথা বলা নিয়ে সন্দেহ করেন স্বামী জামাল। ২০২০ সালের ০৯ জানুয়ারি স্বামী জামাল বাইরে থেকে এসে দেখেন স্ত্রী ফোনে কথা বলছেন। এ নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে স্ত্রী তানজিলাকে।

স্ত্রীকে হত্যা করে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কাছে প্রচার করেন স্ত্রী তানজিলা আক্তারের পরকীয়া প্রেমিক এসে ঘরের মধ্যে তানজিলাকে খুন করেছে।

জামাল মিয়ার কথা বার্তায় সন্দেহ হলে তানজিলার বাবা তারা মিয়া আশুলিয়া থানায় জামাল মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলাটি থানা পুলিশ তদন্ত করে আসামি গ্রেফতারে ব্যর্থ হলে পিবিআই ঢাকা জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটি গ্রহণ করে। তদন্তের দায়িত্ব পায় এসআই মানিক চন্দ্র সাহা।

আসামি পেশায় রিক্সা চালক হওয়ায় গ্রেফতার এড়াতে ঢাকা, চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাসমান অবস্থায় রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল এবং কিছুদিন পর পর অবস্থান পরিবর্তন করছিল।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) গাইবান্ধা জেলার সদর থানা এলাকা থেকে আড়াই বছর আত্মগোপনে থাকা জামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

গ্রেফতারকৃত আসামি জামাল উদ্দিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী হত্যার বর্ণনা দিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জামাল জানায়, সাংসারিক নানা টানা পোড়ন এবং মোবাইলে কথা বলার কারণে তার স্ত্রীকে সন্দেহ করে ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০২০ সালের ০৯ জানুয়ারি সন্ধ্যার দিকে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামি ২০ জুলাই ঢাকা জেলা আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ