Friday, February 23, 2024

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আ’লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়: ফখরুল

তারিখ:

অগণতান্ত্রিক পন্থা পরিহার করে জনকল্যাণকর রাজনীতির পথে ফিরে আসতে বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার (১ জুন) এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে এ তিনি আহ্বান জানান।

দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের অপচেষ্টা না করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে বিএনপির নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, অন্যথায় বরাবরের মতো আবারও জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যারা একাধিকবার গণঅভ্যুত্থান ও গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল তাদের মুখে গণঅভ্যুত্থানের কথা মানায় না।

গণধিকৃত ও গণশত্রুরা রাজনীতির মাঠে জনগণের কল্যাণে কখনোই কিছু করে না উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের তার বিবৃতিতে বলেন, গণবিরোধী এসব শক্তির স্বরূপ জাতির সামনে ইতোমধ্যেই উন্মোচিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জনগণকে এই অশুভ শক্তির ছায়া থেকে দূরে রাখতে চাই।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরে দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান দেশে তথাকথিত বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন বলে বিএনপি নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করে থাকেন এমনটা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মূলত জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রাজনীতি করার লাইসেন্স প্রদানের পাশাপাশি প্যাড সর্বস্ব রাজনৈতিক দল এবং দলছুট রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে কারফিউ গণতন্ত্র চালু করে জাতির সঙ্গে তামাশা করেছিল।

তিনি বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আজও বিএনপি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি, স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল ও দলছুট নেতাদের নিয়ে তথাকথিত বহুদলীয় প্লাটফর্ম তৈরি করার পাঁয়তারা করছে।

দুর্নীতিবাজ নেতৃত্বকে মুক্ত করার নামে তথাকথিত আন্দোলনের এই প্লাটফর্ম মূলত দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার প্লাটফর্ম বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার সুনির্দিষ্ট কোন মামলা ছাড়া কাউকে আটক করে রাখে নাই এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর বলেই গ্রেনেডের বিপরীতে গ্রেনেড ব্যবহার করেননি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে তার নিজের বাসায় রেখে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, অথচ বিএনপি সরাসরি আইন ও সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ড দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন যে প্লাটফর্ম তৈরির পাঁয়তারা করছে তা দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ বলে জনগণ মনে করেন।

বুধবার (০১ জুন) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে কৃষক দল আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, অগণতান্ত্রিক ভাষায় কথা বলছে ক্ষমতাসীন দল। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, কালকে যেভাবে হুমকি দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের সাহেব, এটা কোনো রাজনীতির ভাষা নয়, এটা কোনো গণতন্ত্রের ভাষা নয়। আপনারা মুখে মিথ্যা কথা বলেন কেন, গণতন্ত্র করতে চান? আপনারা তো গণতন্ত্রই বিশ্বাস করেন না। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে এই ভাষায় কথা বলতেন না। আজকে আপনারা ছাত্রদের মারলেন, জঘন্যভাবে মারলেন, আজকে আবার সেটা জাস্টিফাই করছেন, এটাই হচ্ছে আপনাদের চরিত্র। এরা এদিকে লুট করবে, মানুষকে হত্যা করবে, আবার সন্ত্রাস করবে। সন্ত্রাস করে ক্ষমতা দখল করে আরও বেশি করে লুটপাট করবে তারা।

এ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেটের কারণে ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি আরও বলেন, এখন তো চালের দাম কমে আসার কথা, সেই জায়গাতে চালের দাম বাড়ছে। এখানে আবার কারসাজি, সেই আওয়ামী দুর্বৃত্তদের, আওয়ামী চোর-লুটেরাদের কারসাজিতে এ দাম বাড়ছে। আবার মুনাফা লুটবে তারা।

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবে সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল।

গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মে) সকালে এক অনুষ্ঠানে আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার জন্য সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের নামে আগুন সন্ত্রাসের জবাব রাজপথে দেয়া হবে। সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ রাজপথে আছে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রদল-ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে কাদের আরও বলেন, বিএনপি ছাত্রদলকে ব্যবহার করে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু সবকিছুর শেষ আছে। বেশি বাড়াবাড়ি ভালো না। আগুন নিয়ে খেললে পরিণতি ভয়াবহ হবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে অপমান ও হত্যার হুমকি দিয়েছে বিএনপি। ছাত্রলীগ কি বসে থাকবে? আওয়ামী লীগও দেখাবে কত ধানে কত চাল।

রাজধানীর গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং সব সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যৌথসভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

এদিকে আজ বুধবার আন্দোলনের ঐক্য গড়তে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ে দলটির সঙ্গে সংলাপে বসেছে বিএনপি। বিএনপির মহাসচিবসহ দলের তিনজন প্রতিনিধি সংলাপে অংশ নিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ