Friday, March 1, 2024

মহাসচিবের সঙ্গে বেয়াদবি করা সেই গোলাম মওলা শাহীনকে পুরস্কৃত করল বিএনপি

তারিখ:

সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কমিটিতে দুই নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে গোলাম মওলা শাহীনকে। যিনি সবশেষ মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক ছিলেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান, সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, ২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসাহাক সরকার, দফতর সম্পাদক কামরুজ্জামান।

পাঁচ বছর পর নতুন কমিটি ঘোষণার পরপরই আলোচনায় আসে গোলাম মওলা শাহীনকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায়। দল ও দলের বাইরে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, যা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিশন মিলনায়তনে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় ডা. মুরাদের সমালোচনা করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান একসময় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন, পরে তিনি ছাত্রলীগে যোগ দেন।

এ সময় দর্শকসারিতে সামনের দিকে থাকা ঢাকা মহানগর যুবদলের তৎকালীন আহ্বায়ক গোলাম মওলা শাহীন মহাসচিবের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং ফখরুলের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

এ সময় মহাসচিব তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ইউ ডোন্ট নো, তুমি জানো না, আমি জেনে বলছি।’ তারপরও শাহীন মহাসচিবের সঙ্গে তর্ক অব্যাহত রাখেন। এতে ফখরুল আরও উত্তেজিত হয়ে শাহীনকে ‘বেয়াদব’ বলে বেশ কয়েকবার ধমক এবং তার পরিচয় জানতে চান। তখন কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনা দল ও দলের বাইরে সমালোচিত হয়। কিন্তু ভরা মজলিশে দলের মহাসচিবের সঙ্গে তৃণমূল নেতা এমন কাণ্ড ঘটালেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কিন্তু ছয় মাস না যেতেই মহাসচিবের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়া গোলাম মওলা শাহীনকে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করায় সমালোচনা করছেন অনেকেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা সময় সংবাদকে জানান, মহাসচিবের সঙ্গে একটি খোলামেলা সভায় বেয়াদবি করা কর্মীকে কেন্দ্রীয় পদে পদন্নতি দেয়া মূলত দলের চেইন অব কমান্ড অনেকটা দুর্বল করে দেয়ার মতো। এতে অন্য নেতাকর্মীরাও সিনিয়রদের সঙ্গে যেকোনো সময় এমন বেয়াদবি করতে পারেন, যা দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা গোলাম মওলা শাহীনের পদ পাওয়ার ঘটনাটিকে ‘বেয়াদবির পুরস্কার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের মোবাইল ফোনে একাধিববার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জনপ্রিয় সংবাদ