Thursday, February 29, 2024

একাংশের সম্মেলন থেকে ড. কামালকে সভাপতি ঘোষণা

তারিখ:

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের একাংশের সম্মেলনে হামলা চালিয়েছে দলটিরই আরেক পক্ষ। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। এতে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য মোকাব্বির খানসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ২০১৯ সালে দলটির বিশেষ কাউন্সিলের পর নেতৃত্বের বিরোধ নিয়ে প্রকাশ্যে কোন্দল চলছে। একপর্যায়ে পালটাপালটি বহিষ্কারও চলে। এখন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একাংশ চলছে, যার নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খান। অন্যদিকে গণফোরাম নামে আরেকটি অংশের সভাপতি মোস্তফা মহসিন মন্টু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নির্বাচনি সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ।

এর মধ্যেই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন অংশ কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়ে শনিবার তা আয়োজন করে। একই সময় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মোস্তফা মহসিন মন্টুর নেতৃত্বাধীন অংশের নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের বাইরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। একপর্যায়ে এ অংশের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা মোকাব্বির খানকে ‘সরকারের দালাল’ আখ্যায়িত করে স্লোগান দেয়। এরপর দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। মঞ্চ থেকে নেমে এসে থামাতে গেলে প্রতিপক্ষের ছোড়া চেয়ারের আঘাতে আহত হন মোকাব্বির খান। পরে প্রেস ক্লাবে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কাউন্সিলে থাকা গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খান অভিযোগ করেন, গণফোরাম থেকে বহিষ্কৃতরা পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনিসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। মোকাব্বির খান আরও বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিল আয়োজন করেছি। এটা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতকারী কাউন্সিলে হামলা করে আমাকেসহ আরও অনেককে আহত করেছে। এটা গণতন্ত্রের ওপর হামলা। গণফোরাম থেকে বহিষ্কৃতরা এ হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণফোরামের অপর অংশের সভাপতি মোস্তফা মহসিন মন্টু। তিনি জানিয়েছেন, তার অনুসারী কেউ ওই কাউন্সিলে ঢোকেনি। মোস্তফা মহসিন মন্টু আরও বলেন, আমি একটি ব্যক্তিগত কাজে বাইরে আছি, আমাদের সুব্রত চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতা কেউ প্রেস ক্লাবে আজ যাননি। আমাদের মহানগরের কমিটি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেখান থেকে তারা প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ করে চলে এসেছেন।

কাউন্সিলে গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেন অবশ্য ছিলেন না। কাউন্সিল আহ্বানকারীদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন মোস্তফা মহসিন মন্টু। তিনি দাবি করেন, যারা কাউন্সিলের আয়োজন করেছেন, ড. কামাল হোসেন তো তাদের সঙ্গে নেই। তিনি তো আমাদের চিঠি দিয়েছেন।

সংসদ-সদস্য মোকাব্বির খান গ্রুপের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের জাতীয় কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে ড. কামাল হোসেনকে পুনরায় দলটির সভাপতি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির পরবর্তী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি ঠিক করার জন্য একটি উপকমিটি করা হয়। এ কমিটির প্রধানও করা হয়েছে কামাল হোসেনকে। জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের সভাপতি মোকাব্বির হোসেন খান এ প্রস্তাব করলে উপস্থিত ডেলিগেটরা সর্বসম্মতিক্রমে হাত তুলে ড. কামাল হোসেনের পক্ষে সমর্থন জানান। এর আগে মোকাব্বির খান অধিবেশনে জানান, ড. কামাল হোসেন এ কাউন্সিলকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি লিখিত চিঠি পাঠিয়েছেন। অসুস্থ থাকার কারণে এ সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি।

সম্মেলনে মোকাব্বির খান বলেন, গণফোরামের মধ্যে এখন তিনটি ভাগ। একটি গ্রুপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে চায়। অপর গ্রুপ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার দালালি করতে চায়। আর আমার গ্রুপ জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে ড. কামাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চায়। যে কোনো মূল্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের পক্ষ নিয়ে আমরা কাজ করব। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে ছাড় দেব না। কারও লেজুড়বৃত্তিও করব না।

এ সময় তিনি আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের বৈধতা দিয়েছেন। মন্টু গ্রুপের গণফোরামকে বৈধতা দেয়নি। চলতি বছরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণফোরামের আরেকটি বড় কাউন্সিল হবে। ওই কাউন্সিলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা হবে।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন গণফোরাম নেতা মফিজুল হক কামাল, অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান, আ ও ম শফিক উল্লাহ, ছগির আনোয়ার, অ্যাডভোকেট সুরাইয়া বেগম, সেলিম আকবর প্রমুখ।

জনপ্রিয় সংবাদ