Friday, March 1, 2024

চাদর-বালিশের কভার নয় রং যাচাইয়ের কথা ছিল

তারিখ:

সরকারি আদেশে (জিও) ভুল তথ্য উপস্থাপন করায় পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদের বিদেশ সফর নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আর জিওতে ভুল থাকায় জার্মানি যাচ্ছেন না পুলিশ মহাপরিদর্শক। এটি সংশোধনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজকালের মধ্যে চিঠি দিচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর। সরকারি আদেশ সংশোধন হওয়ার পর জার্মানি যাওয়া বা না যাওয়ার ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন আইজিপি। জিওতে এমন ভুল হওয়ায় পুলিশের ভেতরেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন্স) হায়দার আলী খান বলেন, জিওতে এই ধরনের ভুল কাম্য নয়। অসাবধানতাবশত এই ভুলের কারণে সফরের কারণ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, আপাতদৃষ্টিতে জিওটি পড়লে মনে হয়, পুলিশ মহাপরিদর্শক এক লাখ বিছানার চাদর ও বালিশের কাভার কিনতে জার্মানিতে যাচ্ছেন। অথচ বিষয়টি তা নয়। চাদর ও বালিশের কাভার কোনোটিই বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে না। জার্মানি বিছানার চাদর ও বালিশের কাভার প্রস্তুতকারী দেশও নয়। জিওর শব্দগত বিন্যাসের কারণেই এ ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. কামরুজ্জামান বলেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল (পিপিআর) অনুসরণ করেই কেনাকাটার কাজটি হচ্ছিল। এ ক্ষেত্রে যিনি বা যারা কিনছেন, তার বা তাদের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদনসংশ্নিষ্ট কাঁচামাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা আছে। এর অংশ হিসেবেই এ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ভুল জিওতে আইজিপি জার্মানি যাবেন না। এটি সংশোধন করতে চিঠি দেওয়া হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের আরেক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে যেহেতু ভালোমানের রং তৈরি হয় না তাই রং যেন ইউরোপীয় মানের হয় সেটা দরপত্রে উল্লেখ ছিল। সেটা দেখতেই পুলিশ মহাপরিদর্শকের এই সফরে যাওয়ার কথা। এর আগের আইজিপিও একই সফর করেছেন।

জানা গেছে, জিওর জন্য গত ২৭ জানুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (লজিস্টিকস) আতাউল কিবরিয়া স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সরকারের সংশ্নিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ১ লাখ বিছানার চাদর (বালিশের কাভারসহ) নাইস ফেব্রিক প্রসেসিং লিমিটেডের জন্য চুক্তি হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বালিশ ও তার কাভার তৈরিতে ব্যবহূত রং ও কেমিক্যালের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ফ্যাক্টরি একসেপটেন্স টেস্টের (ফ্যাট) কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য জার্মানি যাওয়ার জন্য মনোনয়নের অনুরোধ করা হয়।

জানা গেছে, নাইস ফেব্রিক প্রসেসিং লিমিটেড নোমান গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। নাইস ফেব্রিকের মূল ফ্যাক্টরি গাজীপুরের শ্রীপুরে। ওই কারখানায় পুলিশের জন্য বিছানার চাদর ও বালিশের কাভার তৈরি করবে প্রতিষ্ঠানটি। তবে জার্মানি থেকে আসার কথা রয়েছে ওই কাপড় তৈরির রং।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত সরকারি আদেশে বলা হয়, ২-২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে কোনো ৯ দিন (ভ্রমণের সময় বাদে) এই সফর হবে। এই সময় তিন কর্মকর্তা ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপটেন্স টেস্টে (ফ্যাট) অংশ নেবেন। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভ্রমণের পুরো খরচ বহন করবে। এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্নেষ থাকবে না। ওই সরকারি আদেশে পুলিশ মহাপরিদর্শক ছাড়াও জার্মানি যাওয়ার জন্য মনোনীত করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব ফিরোজ উদ্দিন খলিফা ও আইজিপির স্টাফ অফিসার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাসুদ আলমকে। ভুল তথ্য দিয়ে জিওর কারণে এ ধরনের সফর নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ এমন প্রশ্ন তোলেন, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশের খ্যাতি রয়েছে। তাহলে জার্মানি থেকে বিছানার কাপড় ও বালিশের কাভার কিনতে হবে।

এ ব্যাপারে নোমান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুল্লাহ জাবের সমকালকে বলেন, জার্মানি বিছানার চাদর বানায় না। সেখান থেকে আনার কথা রং। আর কেমিক্যালের মান যাচাই করার জন্য বিদেশে ফ্যাক্টরি ভিজিট করা একটি রেগুলার প্র্যাকটিস। কারণ এর আগে এমন ঘটনাও ঘটেছে ইউরোপীয় ও আমেরিকান কেমিক্যালের স্যাম্পলে তৈরি মাল দেখিয়ে চাইনিজ স্যাম্পলের জিনিসপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। তাই যে ফ্যাক্টরি থেকে কেমিক্যাল আসে যা যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ