Monday, February 26, 2024

আফগান নারী ফুটবলারদের সামগ্রী পুড়িয়ে ফেলার আহ্বান

তারিখ:

আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আবারও তালেবান আসায় শঙ্কায় পড়েছে দেশটির নারী ফুটবলারদের ভবিষ্যত। যা নিয়ে নিজের ভয়ের কথা জানিয়েছেন আফগান নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক খালিদা পোপাল। তিনি বর্তমান খেলোয়াড়দের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে থাকা নিজেদের অ্যাকাউন্ট ও পাবলিক পরিচয় মুছে ফেলে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে খেলাধুলার সামগ্রী পুড়িয়ে ফেলেন। খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (১৮ আগস্ট) এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে কোপেনহেগেনে বসবাসরত খালিদা পোপাল বলেন, তালেবানরা অতীতে নারীদের হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের ওপর পাথর ছুঁড়েছিল। এ কারণে ভবিষ্যতে কী হতে পারে তা নিয়ে নারী ফুটবলাররা শঙ্কায় আছেন।

 

 

 

No description available.

এ বিষয়ে আফগান নারী ফুটবল লিগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জানান, তিনি (খালিদা পোপাল) সর্বদা তার কণ্ঠস্বর তরুণীদের শক্তিশালী, সাহসী ও দৃশ্যমান হতে উৎসাহিত করতে ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু এখন তিনি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছেন।

খালিদা পোপাল আরও বলেন, আজ আমি তাদের (বর্তমান নারী ফুটবলার) আহ্বান জানিয়ে বলছি, তারা যেন নিজেদের নাম ও পরিচয় মুছে ফেলে এবং নিরাপত্তার জন্য নিজেদের ছবি সরিয়ে নেয়। এমনকি আমি তাদের বলছি, এগুলো পুড়িয়ে ফেলতে অথবা জাতীয় দলের জার্সি ফেলে দিতে।

No description available.

এবং এটা আমার জন্য বেদনাদায়ক। একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে উঠে দাঁড়ানো, জাতীয় নারী দলের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় অর্জন এবং সেটার জন্য যা যা করা সম্ভব সবই করেছিলাম, যোগ করেন তিনি।

‘বুকে সেই ব্যাজ ধারণ করা, দেশের হয়ে খেলা এবং প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার পাওয়ার জন্য আমরা কতটা গর্বিত ছিলাম।’

No description available.

পূর্বে (১৯৯৬-২০০১) ইসলামী আইন দ্বারা পরিচালিত তালেবান শাসনামলে নারীদের বাহিরে কাজ করা থেকে বিরত রাখে গোষ্ঠীটি। তখন মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। নারীদের বাহিরে যাওয়ার জন্য বোরকা পরতে হতো এবং সঙ্গে অবশ্যই পরিবারের পুরুষ সদস্য থাকা লাগতো। আর যারা এই নিয়ম ভঙ্গ করতো তারা তালেবানদের দ্বারা অপমান এবং প্রকাশ্যে মারধরের শিকার হতেন।

অবশ্য, গত রবিবার রাজধানী কাবুল দখল করার পর তালেবান বলেছে যে, তারা ইসলামী আইনের কাঠামোর মাধ্যমে নারীর অধিকারকে সম্মান করবে। নারী শিক্ষা এবং তাদের বাহিরে কাজ করারও অনুমতি দেওয়া হবে। সেই মোতাবেক ইতিমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে আফগান মেয়েরা স্কুলে ফিরেছে। নারীদেরও কর্মস্থলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে তালেবান।

No description available.

তবুও আফগান নারী ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, তারা (নারী ফুটবলার) খুব ভয়ে আছে। তারা উদ্বিগ্ন, ভীত। শুধু যে খেলোয়াড়রা তা নয়, সমাজকর্মীরাও উদ্বিগ্ন। বিপদে পড়লে কারো কাছে যাওয়ার, সুরক্ষা চাইতে কিংবা সাহায্যের জন্য তাদের কেউ নেই। তারা ভয়ে আছে, যে কোনো সময় তালেবানরা এসে হয়তো ঘরের দরজায় নক দেবে।

 

এখন আমরা দেখছি দেশ ধ্বংস হচ্ছে। মনে হচ্ছে, দেশে নারীশক্তি জাগরণের জন্য অর্জিত সব গর্ব ও সুখগুলো অপচয়।’

জনপ্রিয় সংবাদ